আগরতলা অভিমুখে বিএনপির ৩ সংগঠনের লংমার্চ বুধবার
বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা, জাতীয় পতাকা অবমাননা, ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে আগামী বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে আগরতলা অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।
বিএনপির তিন সহযোগী সংগঠনের লংমার্চ কর্মসূচি ঘোষণা
বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা, জাতীয় পতাকা অবমাননা, ভারতের গণমাধ্যমে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপের প্রতিবাদে আগামী বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) ঢাকা থেকে আগরতলা অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির তিন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন—জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল।
সোমবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। জানানো হয়, লংমার্চটি সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে গাড়িবহরের মাধ্যমে আখাউড়া পৌঁছাবে। পথে বিভিন্ন জেলার নেতাকর্মীরা এতে যোগ দেবেন। আখাউড়ায় একটি সমাবেশও আয়োজন করা হবে।
ভারতের সহিংসতার নিন্দা
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে সহিংস হামলা এবং জাতীয় পতাকা অবমাননার তীব্র নিন্দা জানান। তারা বলেন, এ হামলায় হিন্দু সংঘর্ষ সমিতির সদস্যরা জড়িত এবং ভারতের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয় ভূমিকা ঘটনাটির পেছনে সরকারি ইন্ধনের ইঙ্গিত দেয়।
নেতারা আরও উল্লেখ করেন, এ ধরনের হামলা ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী কূটনীতিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের ব্যর্থতা প্রমাণ করে।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ভারতের কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত মন্তব্য করেছেন। তারা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে আঘাত করে সামরিক বাহিনী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়ে আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি নিজেদের অজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
গণমাধ্যমের অপপ্রচার
নেতারা অভিযোগ করেন, ভারতের গণমাধ্যম বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন ও কল্পনাপ্রসূত খবর প্রচার করছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তারা বলেন, এটি ভারতের সংবিধানের ৫৫ অনুচ্ছেদের পরিপন্থি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কা তৈরি করছে।
সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা প্রসঙ্গে
বক্তারা ভারতের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা প্রবণতার সমালোচনা করে বলেন, নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মন্তব্য করার কোনো নৈতিক অধিকার রাখে না। চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তার এবং বিচার বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়।
প্রতিবাদ কর্মসূচি
এর আগে রোববার (৮ ডিসেম্বর) নয়াপল্টনে জাতীয়তাবাদী যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদল যৌথভাবে প্রতিবাদ পদযাত্রা ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালন করে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ভারতীয় হাইকমিশনে স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
নেতারা জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির অঙ্গ সংগঠনগুলো সবসময় তৎপর থাকবে এবং প্রয়োজন হলে আরও বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
What's Your Reaction?